প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Dec 8, 2025
‘আওয়ামী লীগ যে ব্যর্থ কৌশলে জামায়াতকে দুর্বল করতে পারেনি, বিএনপি এখন সেই পথেই হাঁটছে’ — ড. মির্জা গালিব
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগ যে ব্যর্থ কৌশলে জামায়াতকে দুর্বল করতে পারেনি, বিএনপি এখন সেই একই ফেইলড স্ট্র্যাটেজিকে নিজেদের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. গালিব বলেন, রাজনীতিতে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ইতিহাসে যেসব জাতি সংকটের মুহূর্তে এই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে পেরেছে, তারা উন্নয়ন ও ঐক্যের পথে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গঠন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কাঠামো ধরে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজম অতিক্রম করে সুস্থ দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দলগুলো দেশের জন্য কাজ করবে।
দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলই ধীরে ধীরে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে। শুধু আবেগী সমর্থকরাই নয়, বরং বড় বড় নেতারাও এই উত্তেজনাকে উসকে দিচ্ছেন। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছাত্ররাজনীতির সীমা অতিক্রম করে তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনায় নেমেছেন—যা তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না সে আলোচনা নেই। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারাও ব্যক্তি পর্যায়ে তারেক রহমানকে আক্রমণ করছেন। অন্যদিকে বিএনপির বিভিন্ন স্তর থেকেও আওয়ামী লীগের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করা হচ্ছে। আজ সেই একই লাইনে কথা বলেছেন তারেক রহমান নিজেও।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সময় অতিক্রম করছে। কর্মক্ষম তরুণ জনসংখ্যা দেশের বড় শক্তি হতে পারে, যদি তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়। আগামী এক–দুই দশকের মধ্যেই দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য দরকার—সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং দুইটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল।
শেষে বিএনপি–জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, আমাদের এখন শুধু হাসিনা বা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা নয়, বরং সুস্থ ও পজিটিভ প্রতিযোগিতা প্রয়োজন। ঘৃণা নয়, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। এক নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতি নয়। আগামী দশ বছরে দেশ কোথায় যাবে তা নিয়ে চিন্তা করুন।”